পবারাজশাহীরাজশাহীর সংবাদ

রাজশাহীতে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী শ্লীলতাহানির শিকার, গুরুতর জখম পিতা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

২৭ অক্টোবর সকাল ৭ টায় ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করেছে বখাটে যুবক। প্রতিবাদ করতে গিয়ে বখাটের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে সেই ছাত্রীর পিতা।

পবা উপজেলার বামন শেখড় গ্রামের ভ্যান চালক মাসুদ তার ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে স্কুলের পাশে প্রাইভেট পড়ানোর উদ্দেশ্যে ভ্যানে রওনা হলে খড়খড়িতে আসা মাত্রই খড়খড়ি ব্যাংকের মোড় এলাকার জরিনার ছেলে জয় ও হায়দার আলীর ছেলে টিপু নামের দুই বখাটে চলন্ত ভ্যানে উঠে ভ্যান চালক মাসুদের মেয়েকে জড়িয়ে ধরে মুখে ও শরীরে স্পর্শ করে।

এমন ঘটনায় মাসুদ ভ্যান থামিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে বখাটেরা মাসুদের উপর হামলা করে চোখে ও মুখে রক্তাক্ত জখম করে। পরে এলাকাবাসীর তোপের মুখে দুই বখাটেকে পুলিশ আটক করলেও রাতে আবার ছেড়ে দেন। ভ্যানচালক মাসুদের মেয়ে খড়খড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী।

খড়খড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, ২৭ অক্টোবরের ঘটনা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি বলেন, এই ছাত্রী আমার বিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত। তার উপর এই শ্লীলতাহানীর ঘটনা নিয়ে আমরা মানব বন্ধন করার প্রস্তুতি পর্যন্ত নিয়েছিলাম।

খড় খড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের দাবি এমন ঘটনা যেন কোন ভাবেই চাপা না পড়ে। বখাটেদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তারা। দিনের আলোতে একজন স্কুল ছাত্রীর উপর অমানুষিক কর্মকান্ড করে এখনো কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরছে এই বখাটের দল এমন প্রশ্নের উত্তর চান কমলমতি শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীর বাবা মাসুদ বলেন আমাকে বিভিন্ন ভাবে চাপ সৃস্টি করা হচ্ছে যেন এই বিষয়ে আর কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করি। বখাটের আঘাতে দিনমজুর মাসুদের বাম চোখের অবস্থা আশংকা জনক হয়ে পড়েছে। মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে বাবা চোখ হারাতে বসেছে। এমন ঘটনা সুশীল সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে।

খড়খড়ি সহ এলাকাবাসীরা জানান, এই দুই বখাটে এলাকায় চিহ্নিত। তাদের বিরুদ্ধে পুর্বেও এমন অভিযোগ রয়েছে। তাদের পেছনে রয়েছে কোন হাইব্রীড শক্তি আর তারাই সেই ছাত্রীর পরিবারকে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। সেই স্কুল ছাত্রী এই ঘটনার পর লজ্জা আর ভয়ে স্কুলে আসেনি। এই ঘটনার সাথে যারাই জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি করেছেন স্থানিয়রা।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button