রাজশাহীরাজশাহীর সংবাদ

শিল্পীর নিপুণ কারুকার্যের ছোঁয়ায় “মা দূর্গা”

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সনাতন বা হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলো শারদীয় দূর্গা পূজা। আগামী ১১ অক্টোবর শুরু হতে যাচ্ছে এই পূজা। রাজশাহীর পূজার মণ্ডপগুলোতে মা দূর্গার প্রতিমাসহ অনেক প্রতিমা স্থান পাবে। তাই, প্রতিমা প্রস্তুত করতে নিপুণ আঁচড় দিতে ব্যস্ত রয়েছেন মৃৎশিল্পীরা ।

তবে, এ ব্যস্ততায় পিছিয়ে নেই দূর্গাপুরের প্রতিমা তৈরির শিল্পীরাও। রাজশাহীর দূর্গাপুর যেখানে নামের সাথেই রয়েছে মা দূর্গার অবস্থান, সেখানের আয়োজনটা একটু ভিন্ন মাত্রা পাবে এটাই স্বাভাবিক। দিন যতই গড়াচ্ছে উৎসবের আমেজ চারদিকে ততই ছড়িয়ে পড়ছে। চলছে দিনরাত প্রতিমা তৈরির কাজ। শক্ত মাটি নরম করে দেবী দূর্গার সাথে গড়ে তুলছে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী আর সরস্বতীর মূর্তি। খড় আর কাদামাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এরপর প্রতিমাতে দেয়া হবে রং তুলির আঁচড়।

শরতের শারদীয় উৎসব। শারদীয় উৎসব মানেই দূর্গাপূজা। হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী দূর্গা ‘দূর্গতিনাশিনী’ বা সব দুঃখ দুর্দশার বিনাশকারিণী। মাতৃরূপে, পিতৃরূপে, শক্তিরূপে, শান্তিরূপে, বিদ্যারূপে আবির্ভূতা এক মহাশক্তি। তিনি হলেন সম্মিলিত দেবশক্তির প্রতীক। অসুর অর্থাৎ অপশক্তি বিনাশে দেবতারা তাদের সম্মিলিত শক্তিতে সৃষ্টি করেন মহাশক্তি মহামায়া।

পুরাণের মত অনুসারে, শিবের তেজে দেবীর মুখ, যমের তেজে কেশ, বিষ্ণুর তেজে বাহুসমূহ, চন্দ্র তেজে স্তনদ্বয়, ইন্দ্রের তেজে মধ্যভাগ, বরুণের তেজে জংঘা ও ঊরু, পৃথিবীর তেজে নিতম্ব, ব্রহ্মার তেজে পদযুগল। মহাদেব দিলেন শূল, কৃষ্ণ দিলেন চক্র, শঙ্খ দিলেন বরুণ, অগ্নি দিলেন শক্তি (দ্র : হংসনারায়ণ, ১৯৮০, ১৭৫)। এই হল বিপদনাশিনী দেবীমাতা দুর্গা।

দুর্গতি হতে ত্রাণ করেন বলেই দেবীর নাম হয়েছে দুর্গা। রাজ্যভ্রষ্ট রাজা যুধিষ্ঠির বিপদ থেকে মুক্তিলাভ করার জন্য মা দূর্গার আরাধনা করেছিলেন বলে মহাভারতের বিরাট পর্বের ষষ্ঠ্যাধ্যায়ে উল্লেখ রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবী দূর্গা এক মহাশক্তির প্রতীক। সেই মহাশক্তিকেই তারা প্রতিমার মধ্য দিয়ে চিন্ময়ী ব্রহ্মশক্তিকে দর্শন করে। তাই, এই পূজা প্রতিমাকে পূজা করা নয়, প্রতিমাতে পূজা করা।

উপজেলায় এবার ছোট বড়ো ১৯ টি পূজা মণ্ডপে প্রতিমা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মাঝে সবথেকে বড়ো প্রস্তুতি চলছে কেন্দ্রীয় পূজা মণ্ডপ দূর্গাপুর মন্দিরে। শিল্পীর নিপুণ কারুকার্যে আবির্ভূত হচ্ছে “মা দুর্গা ”। পঞ্জিকা বলছে, ২০২১ সালের শারদোৎসব শুরু হবে ১১ অক্টোবর। তার আগে, ৬ অক্টোবর মহালয়ায় শুরু হবে দেবী পক্ষ। ১১ অক্টোবর ষষ্ঠীতে দূর্গাপুজো শুরু হবে, চলবে ১৫ অক্টোবর দশমী পর্যন্ত। এর মধ্যে ১২ অক্টোবর সপ্তমী, ১৩ অক্টোবর অষ্টমী ও ১৪ অক্টোবর নবমী ও দশমীর মধ্যে দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে পূজার অনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

প্রতিমা প্রস্তুত নিয়ে কথা হয় মৃৎশিল্পী গৌওরের সাথে । তিনি বলেন, প্রতিমা তৈরির বাঁশ, খড়, মাটিসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি প্রতিমার মূল্য। আর্থিকভাবে তেমন লাভবান না হলেও পৈত্রিক পেশা ধরে রাখতে এ কাজ করে চলছি। গত ২বছর করোনার কারণে কাজের চাপ কম ছিলো। কিন্তু, এবার আমাদের অনেক কাজ। সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ ফিরছে এটাই ভালো লাগছে।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী আনন্দ সরকার বলেন, মা দূর্গাকে বরণের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি চলছে, পুরো দূর্গাপুর জুড়ে। গত ২বছর করোনা মহামারীর কারণে ছিল বিভিন্ন বিধিনিষেধ। এবার খোলা মাঠে আয়োজন করতে পারলে ফিরবে পূর্ণ আমেজ।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button