রাজশাহীরাজশাহীর সংবাদ

রাজশাহীর টোকাই রাব্বানীর অন্ধকার জগতে পদচারনা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজশাহীর মতিহার থানার নামকরা মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন আলো। আর আলোর হেলপার হিসেবে কাজ করতেন এই টোকাই রাব্বানী। রাব্বানীর কাজ ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আলোর মাদকের চালান সঠিকভাবে তদারকি করা। মাদকের ব্যবসার সাথে আলো তার নাম রাজনৈতিক নেতার সাথে যোগ করলেও, টোকাই রাব্বানী বেছে নেন ভিন্ন পথ।

মতিহার থানার অক্টোর মোড়ে একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী আলোর টাকায় তিনি একটি অনলাইন পোর্টাল খুলেন এবং তার নাম দেন রাজশাহীর সময়। ২০১০ সালের পর থেকে এই টোকাই রাব্বানী নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে শুরু করেন। এই নিয়ে রাজশাহীর মুল ধারার সাংবাদিকেরা বিপাকে পড়েন।

এই টোকাই রাব্বানী পুর্বে রাসিক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের গাড়িতে বোমা হামলা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহী সফর করার কয়েকদিন আগে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টোকাই রাব্বানীর বাড়ি থেকে ভোর বেলায় বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেন নগর পুলিশ। এ সময় হাতে নাতে রাব্বানী পুলিশের হাতে আটক হন। দীর্ঘ ১ বছর কারা হাজতে বাস করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান এই টোকাই রাব্বানী। এই মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

আর এম পির সুত্র অনুযায়ী, জননিরাপত্তা আইনে এই টোকাই রাব্বানীর ৫ বছরের সাজা হয়। পরে মাদক ব্যবসায়ী আলোর মাদকের ব্যবসা বন্ধের করণে আর এম পি পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আলোকে গভীর রাতে পদ্মার চরে আটক করতে গিয়ে ডিবি পুলিশের একাধিক সদস্য আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, ডিবি পুলিশকে হামলা করার সময় এই টোকাই রাব্বানী তার টোকাই বাহিনী নিয়ে আলোকে সহযোগিতা করেছিলেন। ডিবি পুলিশ আহত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আলোকে আবারো চর অঞ্চলে মাদকসহ আটক করার চেষ্টা করে প্রশাসন। সেখান থেকে কৌশলে টোকাই রাব্বানী পালিয়ে গেলেও, আলো নিহত হন পুলিশের গুলিতে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য মতে, মতিহার থানায় মাদকের কোন অভিযান পরিচালনা করতে আসলেই এই টোকাই রাব্বানী সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। কোন মাদক কারবারিকে আটক করলে, রাব্বানী ক্ষীপ্ত হয়ে পুলিশের নামে মিথ্যে বদনাম ছড়াতে থাকেন।

মতিহার থানার সাবেক এস আই নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক তিনি বলেন, আমি মতিহার থানায় থাকাকালীন সময়ে মাননীয় পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। কিন্তু, এই টোকাই রাব্বানী বালু ব্যবসার অযুহাতে ফুলতলা, মিজানের মোড়, তালাইমারি, ডাঁশমাড়িসহ বড় মাদকের চালান নিয়ন্ত্রণ করেন। এর ফলে সে আমাকে প্রকাশ্যে নিষেধ করেন, যেন তার কাজে বাধা না দেই। তার পরেও আমি তার মাদকের বড় চালান আটক করি। এই নিয়ে টোকাই রাব্বানী আমাকে সরাতে মরিয়া হয়ে উঠে। রাজশাহী সিনিয়র সাংবাদিকদের এক অংশের দাবি, আমরা ৪ বছর পুর্বে এই টোকাই রাব্বানীর মাদক কারবার সরকার বিরোধী কার্যক্রম নিয়ে পুলিশ কমিশনারের নিকট একটি আবেদন জমা দিয়েছিলাম। সেটি নিয়ে পুলিশ কমিশনার কাজও করেছিলেন। পরে আর খবর নেইনি। সিনিয়র সাংবাদিকদের দাবি, এমন দেশদ্রোহী মাদক ব্যবসায়ী যেন সাংবাদিকতার মত মহান পেশার নাম ব্যবহার না করেন। তবে পুলিশ কমিশনারের পুর্বের নথি দেখলেই, রাব্বানীর খতিয়ান বেরিয়ে আসবে।

মতিহার থানার অক্টোর মোড় এলাকার অনেক মানুষ অভিযোগ করে বলেন, এই টোকাই রাব্বানীর বাবা একজন কাঠ ফাটানো লেবার। শুধু মাদকের উপর ভর করেই আজ কালো অর্থের মালিক বনেছেন এই রাব্বানী। স্থানীয়রা বলেন, টোকাই রাব্বানী এই অক্টোর মোড় দোকান ঘরে পোর্টাল বানিয়ে সন্ধ্যার পর মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে মাদক সেবনসহ নানা অপকর্ম করে থাকেন। এখানে বসেই মুঠো ফোনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকের দেন দরবার করে থাকেন। এর সাথে যোগ হয় শিরোইল কলোনীর সাড়ে তিন নং গলির (বিহারি) বাসের হেলপার বিশাল। আর এম পির প্রযুক্তির ব্যবহার করলেই বেরিয়ে আসবে টোকাই রাব্বানীর সাথে এই দোকান ঘরে কারা আসা যাওয়া করে। দ্রুত এই পুরো সিন্ডিকেটকে গ্রেপ্তার করলেই বেরিয়ে আসবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button