রাজশাহীরাজশাহীর সংবাদ

রাবির ভর্তি পরীক্ষায় খুলছে না হল

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের(রাবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৪ অক্টোবর। ৩ দিনব্যাপী এই ভর্তি পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খোলার কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু এই তথ্য দেন।

ভর্তি পরীক্ষার সময় ভর্তিচ্ছুদের হলে থাকার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ওরা তো আবেগের জায়গা থেকে বলবেই, এখন আমাদের যে সকল শিক্ষার্থী পড়ছে তাদের প্রায়োরিটি দিচ্ছি। আমাদের খারাপ লাগছে যে আমরা ভর্তি পরীক্ষার সময় হল খুলতে পারছি না । অন্যবারের চেয়ে এবারের সিচুয়েশনটা আলাদা, দেশ এখনো অস্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। করোনা মহামারীর কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে বসে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আমরা এসব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

ভর্তি পরীক্ষার সময় ভর্তিচ্ছুদের থাকা নিয়ে মেস মালিকদের সাথে বসে কোন পদক্ষেপ নিয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শনিবার আমরা শহর এবং ক্যাম্পাস সংলগ্ন মেস মালিকদের সাথে কথা বলেছি। তারা ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার কথা বলেছে। তবে এটা কোন লিখিত চুক্তি নয়। আগামী শুক্রবার আমাদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে মেয়র মহোদয় একটা সভা আয়োজন করবেন। সেখানে নিরাপত্তা সংস্থার সব প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

হল না খোলার যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে উপাচার্য বলেন, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আমরা বুঝতে পারব ঠিক কত শতাংশ শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছে। এখনো যে প্রস্তুতিগুলো রয়েছে, তা সম্পন্ন হয়নি। আগামী একাডেমিক কাউন্সিলে সব সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।

কত শতাংশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা টিকার আওতায় এসেছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের ২৯০০০ এর বেশী শিক্ষার্থী রয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ১৫০০০ শিক্ষার্থী তথ্য দিয়েছে। তবে, ৩০০০ শিক্ষার্থী এখনো ভ্যাকসিন নিতে পারে নি। মাত্র ১২০০০ শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছে, যেটা আশাব্যাঞ্জক নয়। আমরা ইতোমধ্যে প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টের ক্লাস রিপ্রেজেনটেটিভ(সিআর) কে জানিয়ে দিয়েছি তথ্য হালনাগাদ করতে। তাছাড়া, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৮০% টিকা সম্পন্ন হয়েছে এবং ৭৫% দুটো করে ডোজ টিকা পেয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন অন্তত ১ টি করে ডোজ নিয়ে ক্যাম্পাসে আসে।

তিনি আরোও বলেন, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি, সুরক্ষা নিশ্চিত করে যেন সব হল খুলতে পারি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যতটা ক্যাম্পাসে আসার উদ্যোগ দেখি ততটা টিকা নেয়ার উদ্যোগ দেখিনা। আপনারা ইতোমধ্যে জেনে গেছেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যদি ৭০%-৮০% ফাস্ট ডোজ না নেয়, তাহলে আবার বিবেচনা করবে। সে কারণে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লিমিট করে দেয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কত হারে শিক্ষার্থীরা টিকা নিয়েছে সে তথ্যগুলোও আমরা নিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা নিয়ে একাডেমিক কাউন্সিল হয়, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর একাডেমিক কাউন্সিল মিটিং দিয়েছি সেখানেই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button