অর্থনীতিরাজশাহীরাজশাহীর সংবাদ

রাজশাহীর বেত শিল্প এখন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

একসময় গৃহস্থালি থেকে শুরু করে আবসাবপত্র পর্যন্ত প্রায় সবই হতো এই বেত দিয়ে। দামে সস্তা ও নাগালের মধ্যে থাকায় বেশ কদরও ছিল বেতের তৈরি এসব জিনিসপত্রের। তবে, কালের বিবর্তনে হাড়িয়ে যাচ্ছে এই বেত শিল্প। বেতের তৈরি এসব জিনিসের জায়গা দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী। তাই দিন দিন কমে যাচ্ছে বেতের তৈরি জিনিসের চাহিদাও। দুঃজনক হলেও সত্য যে, বেতের বাণিজিক ও চাষ সংক্রান্ত কোন তথ্য মেলেনি রাজশাহী বিসিক, রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও রফতানী উন্নয়ন ব্যুরোর নিকটে।

জানা গেছে, বর্তমানে রাজশাহীর হোসনিগঞ্জে (বেতপট্টি) ৩ টি এবং বহরপুর বাইপাস এলাকায় ৫টি বেতের তৈরি আসবাবপত্র বিক্রির দোকান রয়েছে। তবে, দোকানগুলোতে বেতের তৈরি কিছু কিছু জিনিপত্র পাওয়া গেলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেক কম। মাত্র ৮ টি দোকানে বিলুপ্ত হতে যাওয়া বেতের এসব আসবাবপত্র পাওয়া যায়। বেতের এই সমৃদ্ধ শিল্পটি বাঁচানো এখন একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দারিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক সময় এই বেতপট্টির দু’পাশে ১২ থেকে ১৪টি দোকান ছিল। কিন্তু, বেতের তৈরি জিনিসের চাহিদা কমায় অনেকেই এখন তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।

কারিগর ফুয়াদ হোসেন বলেন, আমার বাবা খাইরুল ইসলামও এই পেশার সাথে দীর্ঘ দিন জড়িত ছিলেন। আমি নিজেও প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছর যাবত এই কাজ করছি। মুজরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন কাজের অবস্থা ভালো না। বেতের কাজের চেয়ে বাঁশের জিনিসপত্রের অর্ডার বেশি পাওয়া যায়। একটি সাইকেলের ঝুঁড়ি তৈরি করলে ৫০ টাকা পাই। আবার মালিক সেই ঝুঁড়ি বিক্রি করে ১০০ থেকে ১৮০ টাকা দরে।

ব্যবসায়ী ফরিদুর রহমান বলেন, আগে বনজঙ্গল বেশি ছিল। তাতে বেত চাষ হতো। ফলে দেশের নঁওগা, দিনাজপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম বিভিন্ন স্থান থেকে বেত নিয়ে আসা হত অল্প দামে। এখনও রাজশাহীতে সিলেট, চট্টগ্রাম ছাড়াও বিদেশ থেকে বেত কিনে কাজ করতে হয়। তাতে দাম কয়েকগুন বাড়লেও সে অনুপাতে বাড়েনি বেতের তৈরি জিনিসের দাম। তিনি আরোও বলেন, চাহিদা কমে যাওয়ায় এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। সবমিলে বেত সঙ্কট, শ্রমিক সঙ্কট, বাজারে পণ্যের চাহিদা কম থাকায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এই শিল্পটি। সবমিলে মর্ডান, বিচিত্রা, মদিনা, কেইন প্লাজায় বেতের তৈরি আসবাবপত্র পাওয়া যাচ্ছে।

বিচিত্রার বিক্রেতা আহম্মেদ আলী উদ্দিন বলেন, চেয়ার বিক্রি হয় প্রতিটি ২০০০ থেকে ৭০০০ টাকা পর্যন্ত। সোফা সেট ১৪০০০ থেকে শুরু করে ৭০০০০ টাকা, মোড়া ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা, ৬ সেটের ১ টি ডাইনিং ১৫০০০ থেকে ৮০০০০ টাকা। এছাড়া ঘাট ৫০০০ থেকে ৭০০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

রাজশাহীতে বেতের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে উপপরিচালক কেজেএম আব্দুল আউয়াল ও রফতানী উন্নয়ন ব্যুরো রাজশাহীর সহকারি পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, তাদের কাছে অফিসিয়ালী কোন তথ্য নেই।

রাজশাহী বিসিকের কাছে কোন তথ্য না পাওয়া গেলেও সেখানকার উপ-মহাব্যবস্থাপক জাফর বায়েজীদ বলেন, আমরা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে তাদের সমস্যাগুলোর কথা জানালে, আমরা সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবো। এছাড়া, এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকা মানুষগুলোকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button