ঈশরদীরাজশাহীরাজশাহীর সংবাদ

স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

মুশফিকুর রহমান, ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ

 

শিক্ষক হলো জাতি গঠনের কারিগর। কিন্তু এবার এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতন স্কুলে গত ২৫ জুলাই তিনটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলে ২৫ জন প্রার্থী আবেদন করে । ২ সেপ্টম্বর বৃহস্পতিবার নিয়োগ পরীক্ষা দেখায় ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতন স্কুলের নিয়োগ বোর্ড কমিটি প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন ।

এই এলাকার মৃত আব্দুল ছঈম উদ্দিন সরদারের ছেলে রাজু অভিযোগ করে বলেন, আমি গরীব মানুষের ছেলে। আমার একটা চাকরির খুব দরকার হলে তখন আমি ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন স্যারের সাথে কথা বলি। তখন স্যার আমাকে ৫ লক্ষ টাকা দিতে বলে।

ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন আমাকে বলেন, ৫ লক্ষ টাকা দিতে পারলে স্কুলের নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরিটা আমাকে দেবেন। তখন আমার বাবা শেষ সম্বল বাড়ির ভিটাজমি আমার বড় ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে। আমার খালাতো ভাই ও আমার বন্ধু জিয়া মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে গোপনে প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেনের নিজস্ব বাস ভবনে গত ২৫ আগস্ট রাত ৭.৩০ মিনিটে টাকা দিয়ে আসি । যথারীতি আমি গত ২ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা কর্মী পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি।

প্রধান শিক্ষক গোপনে অন্য আরেক জনের কাছ থেকে আরো বেশি টাকা পেয়ে তাকে চাকরি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আমাকে চাকরি দেয়নি। আমার দেওয়া তিন লক্ষ টাকা আমাকে ফেরত দেওয়ার দাবীতে এই বিক্ষোভ।

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউল ইসলাম বলেন, রাজু আমার ছোট ভাই। সে বেকার ছিলো। ওর চাকরির জন্য মুক্তার মাষ্টারের সাথে কথা বললে পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা হয়। তিন লক্ষ টাকা পরীক্ষার আগে নেয় এবং দুই লক্ষ টাকা নিয়োগ পত্র দেওয়ার পরে টাকা দেওয়ার কথা ছিলো। টাকা দেওয়ার সময় রাজু আমাকে ও শহিদুল্লাহ সরদারকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে টাকা দিয়েছে । জমিজমা শেষ করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রাজু।

এই এলাকার শাজাহান মল্লিকের ছেলে নাজমুল হোসেন বলেন, আমি ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতন স্কুলের ছাত্র ছিলাম। আমি অফিস সহায়ক পদে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলাম। পরীক্ষা দেওয়ার পর বুঝতে পারলাম এবং দেখলাম, সব বাহিরের। এই স্কুলের ছাত্র হিসাবে কি কেউ শিক্ষাগত যোগ্যাতায় চাকরি পাবে না? তাহলে স্কুলে কি শিখলাম? আমাদের কি শিখানো হলো? অফিস সহায়ক পদে চাকরি করার মতো কি আমাদের স্কুলের ছাত্রদের কোন যোগ্যাতা নাই?

একজন ভুক্তভোগী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা এই স্কুল তৈরীর সময় অনেক শ্রম দিয়েছি। রাতের আঁধারে মাটি কেটে গর্ত ভরাট করেছি, বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটেছি। অনেক কষ্ট করে স্কুল প্রতিষ্ঠিত করেছি। কিন্তু মুক্তার মাষ্টার আমাদের ভাই ভাস্তিদের চাকরি না দিয়ে টাকার বিনিময়ে বাইরের মানুষকে চাকরি দিয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা মুক্তার মাষ্টারের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।

পরে ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা স্কুলের সামনে মানববন্ধন করে প্রধান শিক্ষকের অপসরণের দাবি করে বলেন- আমাদের এক দফা এক দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো দুর্নীতি চলবে না। তারা অভিযোগ করে বলেন, আগের নিয়োগ বাতিল চাই, পূণরায় নিয়োগ চাই এবং শিক্ষক মুক্তার হোসেনের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই ।

এ বিষয়ে ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেনের সঙ্গে তার নিজ বাসায় কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো সঠিক তথ্য আমাদেরকে দিতে পারেন নি।

আরো জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির কারণে ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতনে অভিযোগের লিখিত অভিযোগ পত্র জমা দেন ভুক্তভোগীরা।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button