দূর্গাপুররাজশাহী

হিন্দুদের সার্বিক দিক থেকে সুরক্ষিত রেখে হিন্দু আইন সংস্কার কাজে মনোযোগ দেন-আশীষ মল্লিক

দূর্গাপুর প্রতিনিধিঃ

বিভিন্ন সড়ক ও স্থানের নামের দিকে তাকালে বোঝা যায় সনাতন ধর্মাবলম্বী লোকদের সংখ্যা কী পরিমাণ ছিল এই দেশে। যদিও বা ইতিমধ্যে অনেক নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লোকজন একের পর এক দেশ ছেড়ে কতটুকু দুরদর্শীতা দেখিয়েছে তা বর্তমান প্রজন্মের বোঝার বাকী নেই।

যারা দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি দিয়েছে তারা প্রত্যেকে নিজ স্বার্থে। তাদের অদূরদর্শীতা বা উদাসীনতা যাই বলি না কেন, তার ফলে আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অবস্থান সংখ্যালঘুর খাতায়। আর প্রতিটি রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুদের টিকে থাকতে হলে কতটুকু ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হতে হয়, তা কম বেশি সবারই জানা। কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সকল নিজ চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দেওয়ার ভূমিকা রাখতে পারলে একটা গোষ্ঠী ততটা নিরাপদে থাকতে পারে। যা থেকে আমরা বুঝতে পারি ঐ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের দূরদর্শীতা কতটুকু। আর তা যুগ যুগ ধরে অনুস্মরণীয় হয়ে থাকে। এতগুলো কথা বলেছি, তার কারণ হলো চলমান হিন্দু সংস্কার ইস্যু নিয়ে নিজেদের মধ্যেই চলছে মত-বিরোধ অর্থাৎ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে। তবে চলমান বিষয়ের মতবিরোধ না বলে দুরদর্শীতা -অদূরদর্শীতা বলা যেতে পারে।

দুরদর্শীতা দুই প্রকারের হতে পারে। যথাঃ ১. নিজ স্বার্থে যা করণীয় ২. অন্যদের বা বৃহৎ স্বার্থে যা করণীয়। এই সময়টাতে এসে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংস্কার নিয়ে যারা মত পোষণ করছি, তাদের উচিত জীবন বাজি রেখে প্রথমত দেশে বসবাস করা হিন্দুদের সার্বিক দিক দিয়ে সুরক্ষিত রাখা। আর তা যদি সম্ভব না হয় আপাতত হিন্দু আইন সংস্কার বাদ দিতে পারলে ভালো। কেননা এটা এক্ষুণিই জরুরী হয়ে পড়ে নি। আগের ধাপগুলো সম্পন্ন না করে মাঝখানের বা শেষের ধাপ নিয়ে মনোযোগ দিলে কী হবে?

যাই হোক, ইতিমধ্যে হিন্দু আইন সংস্কার নামক একটা কমিটি প্রকাশ পেয়েছে, যা সবার চোখেও পড়ার কথা। কমিটিতে নাম থাকা লোকগুলোর যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে তা স্বীকার করে নিচ্ছি। অন্যদিকে অতীব দুঃখের সহিত বলতে হয় এদের অধিকাংশ নিজ নিজ স্বার্থ নিহীত।

অন্য কথায়, কমিটিটি রাতারাতি হওয়ার কী দরকার ছিল! সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কথা মাথায় এনে যেসব সংগঠনগুলো কাজ করে যাচ্ছে সেসব সংগঠনগুলোকে একত্রিতকরণ করে সবার সম্মতিতে একটা কমিটি হলে অন্তত একজন আরেকজনকে হেয় করে কথা বলতে পারতো না। এতে নিজেদের মধ্যে কখনো দূরত্ব তৈরি হতো না। বরং ভাতৃত্বপূর্ণ একটা শক্তিশালী ইউনিটি দৃশ্যমান হতো। পাশাপাশি এর সুফল বর্তমান ও আগামীতে পাওয়া যেত।

সদ্য ঘোষিত হিন্দু সংস্কার আইন কমিটি আর হিন্দু সংস্কার আইনের প্রয়োজনীয়তা এই মুহূর্তে বাস্তবায়ন করার পক্ষে কতজন রয়েছে তা গণভোটে জরিপ করলে নিজেদের অবস্থানটুকু আশা করি পরিস্কার হয়ে যাবে।

পরিশেষে বলবো সব জায়গায় গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করতে নেই। এছাড়া নিজেরা নিজেদের ধ্বংসের কারণ যেন না হই।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button