রাজশাহীরাজশাহীর সংবাদ

রাজশাহী গম গবেষণা কেন্দ্রের ড. ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাৎ সহ নানা অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধিন রাজশাহীর শ্যামপুরে অবস্থিত আঞ্চলিক গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাৎ, স্বজনপ্রীতি, একই কর্মস্থলে প্রায় ২০ বছর ধরে অবস্থান, জামায়াত-শিবিরের কানেকশন ও স্বেচ্ছাচারিতা সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগপত্র কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালক বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, মহাপরিচালক বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন অভিযোগপত্র ও অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন একই কর্মস্থলে প্রায় ২০ বছর ধরে চাকরী করছেন। দীর্ঘ দিন একই কর্মস্থলে চাকরীর সুবাদে গড়ে তোলেছেন একটি শক্তিশালি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটেরে মাধ্যমেই করছেন নানা অনিয়ম। একই কর্মস্থলে এই দীর্ঘ সময়ে চাকরীকালে বেশ কয়েক বার অন্যত্র বদলি করা হলেও প্রতিবারই উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বদলি বাতিল করে থেকে গেছেন স্ব-কর্মস্থলে । এরই সুবাদে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন অফিসের বিভিন্ন বাজেট ও প্রকল্পের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করেছেন।

সম্প্রতি ইলিয়াস হোসেনের অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ড্রাইভার অপুর সঙ্গে আতাত করে প্রায় সাড়ে ৩ লাক্ষ টাকার তেল চুরি করে। অফিসে তেল চুরি ঘটনাটি জানাযানি হলে রাতারাতি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তেল পাম্পের মালিক গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ড্রাইভার অপু স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেনের সহযোগীতায় নিজের উপর দায় নিয়ে বিষয়টি মিটমাট করে নেয়।

উল্লেখ্য, ড্রাইভার অপু মূলত একজন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীন রাজশাহীর আঞ্চলিক গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রের অনিয়োমিত শ্রমিক। অল্প কিছুদিন আগে সে নিয়োমিত হয়েছেন। অনিয়োমিত শ্রমিক থকা অবস্থায় আঞ্চলিক গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেনের সুপারিশ এবং অনুরোধে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অপুকে অস্থায়ীভাবে ড্রাইভার হিসেবে নিয়োগ দেন। অভিযোগ রয়েছে এই ড্রাইভার অপুকে দিয়েই ইলিয়াস হোসেন করেন নানা অপকর্ম।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে অফিসের একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধিন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশানের (কেজিএফ) একটি প্রকল্পে অনিয়ম করে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন তার আপন ভাতিজা সামছুল হক এবং নিজ এলাকার একজনকে এই প্রকল্পে নিয়োগ দিয়েছেন। যদিও তার আপন ভাতিজার সরকারী চাকরির বয়স অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। রাজশাহীর আঞ্চলিক গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রের আওতাধীন এই প্রকল্পটি নড়াইল জেলার সদর ও লোহাগড়া উপজেলায় এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিজয়নগরে চলমান। প্রকল্পের তিনটি কেন্দ্রের একজন সুপারভাইজ অফিসার নিয়োগের কথা থাকলেও সেটা না করে নিজেই তা দেখভাল করেন।

অন্যদিকে, আপন ভাতিজা সামছুল প্রকল্প চালুর পর একদিনও অফিস না করেই বেতন-ভাতা নেন। প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভাতিজার পক্ষে অন্য একজনকে দিয়ে সহিঃ করে নিয়ে বেতন-ভাতা তুলে নড়াইলে অবস্থানরত ভাতিজার কাছে পাঠিয়ে দেন। গুত্বপূর্ন কোন কাগজে ভাতিজার সই দরকার হলে একদি এসে সব কাগজে সহিঃ করে চলে যান। অভিযোগ সূত্রে আরো জানাযায়, ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন ভোল পাল্টে জামায়াত নেতা থেকে আওয়ামীলীগ সেজে যায়। ক্ষমতার পালা বদলের সাথে সাথেই সবার কাছে নিজেকে একজন খাটি আওয়ামীলীগার ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয় দিতে থাকেন।

উল্লেখ্য, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেনর কলেজ জীবন থেকেই ছিল জামায়াত- শিবিরের কানেকশন। পরবর্তীতে চাকরী জীবনে এসেও তা থেকে দূরে থাকতে পারেননি। ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারী গঠিত জামায়াত- শিবিরের কৃষি সংগঠন এগ্রিকালচারিষ্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ রাজশাহী জেলা শাখার কার্যকারী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ওই কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ হলেন জামায়াত- শিবিরের চিহ্নিত নেতা ড. মোঃ শাহজাহান, এস এম আবু তাওয়াব খন্দকার ও এ কে এম আমিনুল ইসলাম। সরেজমিন ঘুরে অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানায়ায়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধিন রাজশাহীর আঞ্চলিক গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেনের নানা অনিয়মের কাহিনী। তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাৎ, স্বজনপ্রীতি, একই কর্মস্থলে দীর্ঘ দিন ধরে চাকরী, জামায়াত- শিবিরের কানেকশন ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ। ইলিয়াস হোসেনের অনিয়ম নিয়ে অফিসের কেউও কোন প্রতিবাদ করলেই তাদেরকে নানা ভাবে করা হয় হয়রানি।

উদ্ধত্বপূর্ণ আচারন করে তাদেরকে বলেন; সচিব, এমপি, মন্ত্রীসহ অনেক বড় বড় নেতা আমার আত্নীয় আছে। আমাকে কেউ কোন কিছু করতে পারবেনা। যেই আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে তাকেই দেখে নেয়া হবে। যদি বড় কেউই নাই থাকবে তাহলে এতদিন কি করে এখানে রয়েছি। এই রাজশাহী শহরের আওয়ামীলীগের মূল কর্ণধার, বড় বড় নেতা, কমিশনার, সাংবাদিকদের নেতারা আমার কাছের লোক। যে সকল গনমাধ্যম কর্মীরা তার থলের বিড়ালের অনুসন্ধানে নামে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ তুলে তাদেরকেও হয়রানি করেন এই ড. ইলিয়াস।গম গবেষনার একটি সুত্র বলছে  সরেজমিনে তদন্তে আসলে আরো ভয়ংকর তথ্য মিলবে তার বিরুদ্ধে।

কিছুদিন পুর্বে গবেষনার পরিক্ষাগারের জমি নিয়ে ধান গবেষনার প্রধান কে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করেন তিনি। সরকারি অর্থ লোপাট করে একই জমিতে দুই ধরনের বীজ বুনন করেন ড, ইলিয়াস। এটি নিয়ে হাতাহাতির মত ঘটনা ঘটে দুই পক্ষের মাঝে। এই ঘটনার একাধিক সাক্ষি রয়েছে তার নিজ দপ্তরে। অনুসন্ধান কালে এই সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য গনমাধ্যম কর্মীদের  বিভিন্ন ভাবে তদবির করান তিনি সেটির প্রমান রয়েছে গনমাধ্যম কর্মীদের নিকট। উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা ভিত্তিহীন।

অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা- কর্মচারী আমার বিরুদ্ধে নানা ভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি দীর্ঘ দিন এখানে চাকরী করছি একারণে কিছু লোকের সাথে অফিসিয়ালী ঝামেলা হচ্ছে। তবে অভিযোগের কোন সঠিকতা নেই। চলবে-

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button