পাবনারাজশাহীর সংবাদসংবাদ সারাদেশ

জেলেদের দুর্ভোগ নিয়ে পাবনার ডিকসির বিল নিয়ে ভিডিও প্রতিবেদন পর্ব-১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

এবার প্রকৃত জেলেদের আড়াল করে রাক্ষুসে জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে চলছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের দিকশাইল বিল। এমন ঘটনায় স্থানীয়রা ভেঙ্গে পড়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ ডজন খানেক ব্যক্তির অভিযোগ এই ডিকসির বিল নিয়ে। পাবনা জেলা প্রশাসকের বরাত দিয়ে জানা যায়, এই ডিকসির বিল ইজারা দেওয়া হয়েছে প্রকৃত মৎসজীবীদের – যাদের একমাত্র উপার্জনের উৎস মৎস শিকার।

ফৈলজানা ইউনিয়নসহ প্রতিবেশী এলাকার জেলেদের একমাত্র রুটিরুজির প্রধান অবলম্বন হিসেবে এই দিকশাইল বিলকে চিহ্নিত করা হলেও এই বিল নামমাত্র একটি সমিতির নাম দেখিয়ে সেই সমিতির নামে বিলটি লিজ নেন একটি সক্রিয় চক্র। যেই সমিতির নামে এই বিল লিজ গ্রহণ দেখানো হয়েছে প্রকৃতপক্ষে, তারা মৎসজীবী কিনা এমন অনুসন্ধানে নামেন গনমাধ্যম কর্মীরা। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এই বিলের ভয়ংকর কাহিনী। যে সমিতির নামে এই বিল লিজ দেখানো হয়েছে সেই সমিতির সদস্যদের মধ্যে রয়েছে সরকারী চাকরিজীবীসহ অনেক সম্পদশালীদের নাম। স্থানীয়রা বলছেন, এই বিলে প্রকৃ্ত মৎসজীবীরা মাছ ধরতে গেলেই তাদের ভাগ্যে জুটছে হামলার ঘটনা। বন্দুকের গুলি করার মত ঘটনাও ঘটেছে এই বিলে।

নিয়ম অনুসারে সরকারিভাবে লিজ দেওয়া কোন বিল টেন্ডার বা অন্যপক্ষকে দেওয়া যাবে না। শুধু জেলেরাই মাছ শিকার করবে। কিন্তু এই বিল সংলগ্ন জেলেদের ভাগ্যে জুটেছে ভিন্ন সব নিয়ম। যারা এই বিতর্কিত সমিতির নাম দিয়ে এই বিল লিজ নিয়েছে তারা মোটা অংকের বিনিময়ে সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিয়েছে জেলেদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন এই বিল। এই অসাধু চক্রের সাথে জড়িয়ে আছে সরকার দলীয় একজন উপর দিকের নেতা। আর তার দাপটেই এই বিলকে নয়ছয় করা হয়েছে। সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে কিভাবে তারা এই বিল দখল করে অসহায় জেলেদের বিতাড়িত করেছে, তার জট যেন কিছুতেই খুলছে না।

এই অনিয়মের সাথে কারা জড়িত, তাদের খুঁটির জোর কোথায়, সেটি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মহলে। পাবনার জেলা প্রশাসকসহ রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ফৈলজানা ইউনিয়নের শতাধিক মৎজীবীরা। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দরিদ্রদের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন, সেখানে দরিদ্রদের দুই বেলা খাবারের একমাত্র উৎস কেড়ে নেওয়ার মত ঘটনা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছেন পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা কর্মীরা।

তারা বলছেন, এই বিল নিয়ে জেলেদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে আমরা তাদের সাথে থাকব। তবে সরকারি কর্মকর্তাসহ অনেকেই ফেঁসে যেতে পারেন। এই অনিয়মের সাথে জড়িত গুরুত্বপুর্ণ তথ্য থাকছে আগামী  পর্বে। চলবে->

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button