নাটোররাজশাহীরাজশাহীর সংবাদ

নাটোরে প্রেমে বাধা দেয়ায় নৌকার মাঝিকে কুপিয়ে হত্যা করে ৩ বন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নাটোরের চলনবিলে নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার হওয়া নৌকার মাঝি আরজু ফকিরকে কুপিয়ে জখমের পর জীবন্ত অবস্থায় বিলের পানিতে ফেলে দিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করে তার ৩ বন্ধু।

গত ৭/৮ মাস আগে সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামে আরজু ও তার এলাকার লোকজন বাইজিদ ও তার বন্ধুদের সঙ্গে মেয়ে ঘটিত বিষয় নিয়ে হট্টগোল হয়। ওই হট্টগোলে আরজু ও তার লোকজন বাইজিদের বন্ধুদের ধাওয়া করে। তখন থেকেই শত্রুতা তৈরি হয়।

এই ঘটনার জেরেই ২৬ আগস্ট নৌবিহারের নামে আরজু ফকিরের নৌকা ৭০০ টাকায় ভাড়া করে বাইজিদ বোস্তামী। পরে ওই নৌকায় গুরুদাসপুর উপজেলার হরদমা এলাকা গিয়ে আরো দুইজন উঠে। এ সময় নৌকাটি বিলের ভিতর নিয়ে গিয়ে বাইজিদ ও তার দুই বন্ধু নৌকার মাঝি আরজু ফকিরকে দড়ি দিয়ে বেধে উপর্যুপরি কুপিয়ে বিলের পানিতে ফেলে দেয় এবং নৌকা নিয়ে চলে আসে হত্যাকারীরা।

পরের দিন উপজেলার হরদমা এলাকায় আত্রাই নদী থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রক্তমাখা নৌকাটি উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু আরজু ফকিরকে খুঁজে পাওয়া যায়না।

হত্যাকারী বাইজিদ বোস্তামী কে গুরুদাসপুর উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক বাইজিদ গুরুদাসপুর উপজেলার বিলহরিবাড়ি গ্রামের নাসির বোস্তামীর ছেলে। এই ঘটনায় আরও দু’জনকে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানায় এসপি লিটন কুমার সাহা।

গত ২৭ আগস্ট গুরুদাসপুর থানায় জিডি করেন আরজু ফকিরের পরিবার। পরের দিন গত ২৮ আগস্ট গুরুদাসপুরের বিলসা গ্রাম থেকে নৌকার মাঝি আরজু ফকিরের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আরজু ফকিরকে হত্যা করা হয়েছে এমন তথ্যে নিশ্চিত হলে রহস্য উদঘাটনে নামে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান এসপি লিটন কুমার সাহা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত এসপি তারেক যুবায়ের, সিংড়া সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আকতার, বড়াইগ্রাম সার্কেল অতিরিক্ত এসপি খাইরুল ইসলাম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোনায়ারুজ্জামানসহ অন্যান্যরা।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button