রাজশাহীরাজশাহীর সংবাদ

দাসপুকুরের চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যা মামলার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পর্ব-১

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজশাহীর আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যা মামলায় সন্দেহাতীতভাবে কিছু ব্যাক্তিকে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ জুন মহানগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দাসপুকুর এলাকায় জমির বিরোধে দুই গ্রুপের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে এক গ্রুপের সাজদার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও অপর পক্ষের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে জয়নাল (৪৫) নিহত হন।

 

এ সময় আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন। এই ঘটনার পর উভয় পক্ষ নগরীর রাজপাড়া থানায় পৃথক ভাবে দুটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এলাকাবাসী ও মামলার এজাহার সূত্রে জনা যায়, ঠিকাদার আব্দুস সালামের দাসপুকুর সিটি বাইপাসের পার্শ্বে স্বত্ত ও দখলীয় সম্পত্তি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহাতাব ও তার ভাই কাউন্সিলার কামাল হোসেন তাদের লোকজন জোরপূর্বকভাবে দখল করতে যায়। এ সময় ঠিকাদার আব্দুস সালাম তার ছেলে শিশির ও ভাই শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জমি দখলে বাধা প্রধান করলে কাউন্সিলার কামাল ও তার ভাই মাহাতাবের নেতৃত্বে তাদের লোকজন ঠিকাদার আব্দুস সালাম ও শফিকুলের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের সংর্ঘষে ঘটনাস্থলেই শফিকুল এবং পরে হাসপাতালে জয়নাল মারা যায়। এলাকাবাসী সূত্রে জনা যায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহাতাব ও তার ভাই কাউন্সিলার কামাল হোসেন এবং ঠিকাদার আব্দুস সালাম ও তার ভাই শফিকুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদামান জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

বিবাদামান জমিতে মাহাতাব গ্রুপ বেড়া দিতে গেলে উভপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত শফিকুল ইসলামের স্ত্রী হাবিবা কাকলী সাংবাদিকদের নিকট কান্নাজড়িত কন্ঠে অভিযোগ করে বলেন, যে জমি নিয়ে হত্যাকান্ডের মত এতবড় ঘটনা ঘটালো তারা এই জমির কোন মালিকই না। প্রকৃত জমির মালিক আমার ভাসুর আব্দুস সালাম। তার পার্শ্বের জমির মালিক দেশের বিশিষ্ঠ ঠিকাদার হারুনুর রশিদ। আর এর পরের প্লটটি আমার স্বামী শফিকুলের। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা মাহাতাব ও তার ভাই কাউন্সিলার কামাল হোসেন ভূঁয়া একটি পাওয়ার দলিল করে বারবার এই জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল। এই বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে এবং সিটি কর্পোরেশনে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

কিন্তু কামাল হোসেন সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলার আর তার ভাই মাহাতাব আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় তারা জমির কোন বৈধ কাগজ দেখাতে না পারলেও জোর করে জমি দখলে নিতে চায়। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বিবাদমান এই জমির প্রকৃত মালিক জেবুন্নেছা গং এর নিকট থেকে ঠিকাদার হারুনুর রশিদ ২০০১ সালে ১৬ অক্টোবর নিয়মতান্ত্রিকভাবে জমিটি ক্রয় করে। কিন্তু উল্লেখিত জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠার কারণে চলতি বছরে ২৪ জানুয়ারীতে পুনরায় জেবুন্নেছা গং এর ওয়ারিসগণের নিকট থেকে রেজিস্ট্রিসহ জায়গাটি বুঝে নেয়। স্থানীয়রা জানান, এই জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ঠিকাদার হারুনের কোন প্রকার জটিলতা থাকেনা। এতকিছুর পরেও কিভাবে সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়ে একজন ঠিকাদারের নাম এই আলোচিত হত্যা মামলায় আসে?

নগর পুলিশের একটি সূত্র বলছে, যেহেতু এটি একটি আলোচিত মামলা, তাই এটি সর্ব্বোচ দক্ষতার সাথে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কোন নিরঅপরাধ ব্যাক্তি যেন ফেঁসে না যান সেদিকে খেয়াল রেখেই মামলার পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূলত ঠিকাদার হারুনুর রশিদকে হয়রানির উদ্দেশ্যেই এই মামলায় নাম দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যেহেতু তার ঠিকাদারী কাজে ব্যবহৃত বুলড্রেজার মেশিন রয়েছে, সেটি ভাড়ায় চালিত হয় আর এই ভাড়াকৃত বুলড্রেজার মেশিনের কারণেই তার নাম দেয়া হয়েছে।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button