দূর্গাপুররাজশাহীরাজশাহীর সংবাদ

দূর্গাপুরে বেড়েছে দেশি মাছের সরবরাহ

দূর্গাপুর প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাজারগুলোতে দেখা মিলছে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ। ক্রেতা-বিক্রেতা দর কষাকষিতে জমে উঠেছে বাজারগুলো। মাছের দাম ক্রয় সাধ্যের ভিতরে থাকে থাকায় খুশি ক্রেতা ।

বিগত কয়েক বছরে আষাঢ়ে তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দেশি প্রজাতির মাছের উৎপাদন ছিলো নিন্মমুখী। হুমকিতে পড়েছিলো হাজারো মৌসুমি জেলে পরিবার। সেই সাথে তুলনামূলক নিচু অঞ্চল জুড়ে পুকুর খননের হিড়িক কমিয়ে দিয়েছে উৎপাদন। সকলের পছন্দের তালিকায় দেশী মাছগুলো থাকলেও দাম ও স্বল্পতার কারণে মাছের বাজারগুলো একচেটিয়া দখলে রেখেছে পাঙ্গাস, সিলভার কার্প, রুই, তেলাপিয়া সহ বিভিন্ন প্রজাতির চাষের মাছ।

কয়েক বছরের ব্যবধানে মারাত্মকভাবে কমেছে দেশি মাছ শিকারী জেলের এর সংখ্যা। বিল ও ছোট নদীগুলোতে অলস পড়ে থাকত খেয়াজাল গুলো। বর্ষা মৌসুমে নিম্নআয়ের অনেক মানুষের দেশি মাছ ধরা মৌসুমী পেশা থাকলেও বিগত বছরগুলোর প্রতিকূল পরিবেশের জন্য অনেকেই পরিবর্তন করেছেন পেশা। তবে আশার আলো দেখাচ্ছে এবারের বর্ষা মৌসুম। সরজমিনে দূর্গাপুরে বিভিন্ন খালবিল এলাকা ঘুরে জেলেদের সাথে কথা বলে জানাযায় তাদের বিগত দিনের নানান দুর্ভোগের কথা। তবে এবার দেখা মিলছে প্রচুর পরিমানে দেশী মাছ। যেগুলো স্থানীয় বাজারে বেশ চড়া দামে বিক্রি করছেন জেলেরা। বাজারগুলোতে উঠেছে টাকি,শোল,বোয়াল, কই, পুটি, দারকিনা, টেংরা, সহ নানান প্রজাতির দেশী মাছ যেগুলো বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কোজি থেকে ৪০০ টাকা কেজির ভেতর আবার সাইজে বড়ো হলে কেজিতে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ৫০০ টাকা সব মিলিয়ে জমে উঠেছে দেশী মাছের বাজার।

মৌসুমী জেলেরা জানায়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বৃষ্টিপাত হয়েছে অনেক ভালো খাল-বিল পানিতে পুরাপুরি পূর্ণ। এক কথায় যত পানি তত মাছ। কিন্তু বিগত বছরগুলোর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত সল্পতায় ঘটেছে মাছের প্রজন্ম ঘাটতি । এখন যা ধরা পড়ছে অধিকাংশই নতুন জন্ম নেওয়া মাছ । জেলে শফিক উদ্দিন জানান, আমার মূল পেশা কৃষি কাজ তবে মৌসুমে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। আমাদের বিলটা তুলনামূলক অনেক নিচু সেজন্য বর্ষার মৌসুমে অনেক পানি জমে যায়। আর সেই পানিতে প্রচুর পরিমাণে জন্ম নেয় দেশী প্রজাতির বিভিন্ন মাছ। খেওয়া জাল দিয়ে ধরে এই মাছ বাজারে বিক্রি করে থাকি। কিন্তু বিগত বছরগুলো মাছ পাইনি বলাই চলে দিনগুলোতে অনেক কষ্টে গেছে এবার আশার আলো দেখছি ।এভাবে মাছ পেতে থাকলে বিগত দিনের ক্ষতিগুলো পুষিয়ে নিতে পারব।

জেলে শফিক জানায়, অভাবের সংসার ভালো-মন্দ কিছু কিনতে পারি নাই সে জন্য মাছ ধরাকে মৌসুমী পেশা হিসেবে রাখি। একদিকে যেমন আয় হয় অন্যদিকে ভালো তরকারি দিয়ে দুবেলা খাবার জোটে। গত দুই বছরে তেমন মাছ পাইনি, এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এই মৌসুমী পেশা রাখবো না। একদিকে পুকুর খননকারী অত্যাচার অন্যদিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয় না। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে ভাগ্যটা পরিবর্তন হবে। প্রশাসন যদি একটু খেয়াল রাখে সুতি জাল মুক্ত রাখতে পারে। তবে বিগত দিনের ক্ষতিগুলো পুষিয়ে নিতে পারব ইনশাআল্লাহ।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ ইমরুল কায়েস জানান, দেশ-ও প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিনামূল্যে বিভিন্ন সরকারি জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করা হবে। সরকারি জলাশয় গুলো অধিক মাছ উৎপাদনের উপযোগী করা হবে। জলাশয় গুলোতে নিষিদ্ধ জাল ও সুতি জালের ব্যবহার বন্ধে মনিটরিং করা হচ্ছে এমন অভিযোগ পেলে অভিযান পরিচালিত হবে। দেশী মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মা মাছ সংরক্ষণের লক্ষে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সর্বপরি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে যুগোপযোগী অধিকাংশ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button