রাজশাহীরাজশাহীর সংবাদসংবাদ সারাদেশ

রাজশাহীতে পদ্মার চরবাসী গবাদি পশু নিয়ে সঙ্কটে

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজশাহীতে বন্যায় পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে কোন কোন চর ডুবে গেছে, আবার কোনটিতে জলমগ্নতা। এমন অবস্থায় চরে গরু লালন পালনকারীরা পড়েছেন বিপাকে। একদিকে গরুর থাকার জায়গার অভাব, অন্যদিকে খাবারের অভাব। সবমিলে উভয় সংকটে চর ছেড়ে লোকালয়ে এসেছেন চরবাসী।

চরবাসী আবু তাহের, শাজদার ও শাহাদুল বলছেন, পদ্মার মধ্যচরে যারা বসবাস করেন, তারা পদ্মায় পানি বাড়ার শুরুতেই লোকালয়ে চলে এসেছেন। মধ্যচরে অল্প মানুষ ও গবাদি পশু ছিলো। পদ্মার পানি বাড়ায় চারপাশ তলিয়ে গেছে। এছাড়া মধ্যচরেও পানি উঠেছে। এমন অবস্থায় গরু নিয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তাই একসপ্তাহ আগে গবাদি পশু নিয়ে লোকালয়ে চলে এসেছেন তারা। পানি নেমে গেলে আবারও গরুগুলো নিয়ে পদ্মার চরে ফিরে যাবেন তারা।

গতকাল বুধবার বিকেলে নগরের বিনোদপুরের রেডিও সেন্টার মাঠে চরের গরুর মালিক ও রাখালদের ২৩০ টি গরু আহার (চড়াতে) করাতে নিয়ে আসেন। সপ্তাহ খানেক থেকে গরুগুলো এই মাঠে চড়ছে (আহার করছে)। যদিও রেডিও সেন্টার সংরক্ষিত এলাকা। তাই পুরো মাঠ কাটাতারের বেড়ায় ঘেরা। সেই তারের বেড়ার মধ্যেই গরুগুলো ঘাস খাচ্ছে। গরুর মালিক ও রাখালরা বলছেন, এই মাঠের মত বড় ফাঁকা জায়গা আর নেই। তাই বাধ্য হয়ে তারা এখানে নিয়ে এসেছেন গরুগুলো।

শাজদার আলী নামের একজন গরুর মালিক জানান, গরুগুলো থাকতো পদ্মার মধ্যচরে। বর্তমানে সেখানে জলমগ্নতা। তাই এক সপ্তাহ আগে সবার গরু লোকালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এপারে (লোকালয়ে) গরুর থাকা ও খাবারের সঙ্কট। উপাই নেই। তবুও নিয়ে আসতে হয়েছে। চরে থাকলে বড় ভয় পানিতে ডুবে গরু মারা যাওয়ার। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হবে।

আবু তাহের নামের অপর গরুর মালিক জানান, এখানে কারও ৩০ টা, কারো ৪০ টা, কারো ৫০-৬০ টা গরু আছে। আমাদের ২০ টা গরু আছে। এর মধ্যে ১০ টা গরু দুধ দেয়। বাকিগুলো ছোট ও ষাঁড় গরু। এখন সবগুলো গরু সবার বাড়িতেই রাখতে হচ্ছে।

চরে থাকলে কোন চিন্তা থাকে না। সারাদিন পুরো চরে আহার করবে। রাতে এসে বাথানে থাকবে। কিন্তু লোকালয় তো শহর এলাকা। এখানে তেমন ঘাস নেই। ফলে ধানের খড় কিনে খাওয়াতে হচ্ছে। পানি নেমে যাওয়ার এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই আবার গরু নিয়ে চরে ফিরে যাবো।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button