রাজশাহীরাজশাহীর সংবাদ

অনলাইন ক্লাসের সুফল শহরে, পিছিয়ে পড়ছে প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা

বাংলা সংবাদ ডেস্কঃ

শিক্ষক শিক্ষার্থীর জন্য সরাসরি ক্লাসে পাঠদান, পাঠ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। অনলাইনের ক্লাস কখনো একমুখী, কখনো দ্বি-পক্ষীয় হলেও প্রযুক্তি দুর্বলতায় তা আমাদের দেশের জন্য যথেষ্ট নয়। ইন্টারনেটের গতি, অভিভাবকদের সামর্থ্য, শিক্ষকদের দক্ষতা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকার কথা জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। অনলাইন ক্লাসের যৎকিঞ্চিত সুবিধা শহরের শিক্ষার্থীরা পেলেও পিছিয়ে রয়েছে গ্রামের ছাত্র ছাত্রীরা।

শিক্ষাবিদরা মনে করেন, অনলাইন ক্লাসের শুরুটা তাড়াহুড়া করে হলেও পরবর্তীতে এ জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রয়োজন ছিল। সমীক্ষার মাধ্যমে এই ক্লাসের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হতো। এ ছাড়াও শিক্ষকদের উজ্জ্বীবিত করা, অভিভাবকদের শিক্ষাব্যয় কমানো, অনলাইন ক্লাসের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা, ডিভাইস কেনার জন্য আর্থিক প্রণোদনা প্রয়োজন ছিল।

সরাসরি পাঠদানের বিকল্প অনলাইন ক্লাস সম্পর্কে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক বেলাল হোসাইন বলেন, করোনা মহামারীর প্রথম ঢেউয়ে সংক্রমণ রোধে আমরা যে সব পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, এর মধ্যে অন্যতম ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা। বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী করা। এজন্য অনলাইন ক্লাস ও টেলিভিশনে ক্লাস সম্প্রচার করা হয়। চলতি বছরের ৩১ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফের চালুর সিদ্ধান্ত নিলেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় এ পরিকল্পনা স্থগিত করতে হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চা ও পাঠে মনোযোগী রাখার লক্ষ্যে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধমে ‘ঘরে বসে শিখি’ প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ সম্প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কমিউনিটি রেডিওতেও পাঠদান কার্যক্রম চালু আছে। মহামারীতে সরাসরি ক্লাস বন্ধ হলেও বিকল্প ক্লাসগুলোয় সরকার প্রাথমিকের ১ কোটি ৪০ লাখ প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখছে।

শিক্ষার্থী পর্যায়ে এসব উদ্যোগের সুফল কতটা পৌঁছেছে?
গণসাক্ষরতা অভিযান পরিচালিত ‘এডুকেশন ওয়াচ ২০২১’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, দূরশিক্ষণ কার্যক্রমে ৬৯ দশমিক পাঁচ শতাংশ শিক্ষার্থীই অংশগ্রহণ করেনি। অর্থাৎ ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিতে পেরেছে। আরেক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণকারীদের ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী মোবাইল ডেটা, ৩৬ শতাংশ ওয়াইফাই বা ব্রডব্যান্ড ও ২ শতাংশ শিক্ষার্থী পোর্টেবল মডেমের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

কেমন চলছে অনলাইন ক্লাস- এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তন্ময় বলেন, বেশ কিছু দিন গ্রামে ছিলাম, ওই সময় ক্লাস করতে পারিনি। লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে গ্রামের বাড়িতে দুর্বলগতির ইন্টারনেটে ক্লাসে ঠিকমতো যুক্ত হতে পারতাম না। লকডাউন শেষ হওয়ায় এখন ঢাকায় এসেছি, নিয়মিত অনলাইন ক্লাসেও অংশ নিচ্ছি।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, অনলাইন ক্লাস হচ্ছে; কিন্তু এতে কি স্কুলের যে লেখাপড়া সেটির মতো হয়? অনেক বিষয় মেয়ে বুঝতে পারে না, এগুলো তো সরাসরি ক্লাস হলে জেনে নিতে পারে। অনলাইনে এক সঙ্গে ৫০-৮০ জন ক্লাস করে, কে প্রশ্ন করবে আর কে শুনবে, শিক্ষক কখন এর উত্তর দেবেন?

ড. কায়কোবাদ বলেন, উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালগুলোতে অনলাইন ক্লাস হয় একটি বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে (ট্যাব)। সেখানে তাদের বিষয়ভিত্তিক কনটেন্ট ইনস্টল করা থাকে। ক্লাসগুলো হয় ইন্টারঅ্যাকটিভ। আমাদের এখানেও অনলাইন ক্লাসগুলো আরও কার্যকর পদ্ধতিতে নেওয়া যেত। আমরা সেই দক্ষতার শিক্ষক তৈরি করছি না। দক্ষতার জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যাপার আছে।

এ প্রসঙ্গে মাউশির পরিচালক বলেন, আমাদের দেশের বাস্তবতায় অনলাইন ক্লাসের মতো একটি পদ্ধতিতে শতভাগ সুফল নিশ্চিত হবে- এমন নয়। এর পরও যতটুকু হয়েছে, সেটি কম নয়। মহামারীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে একেবারে বইবিমুখ হয়ে থাকার চেয়ে এক-তৃতীয়ংশ শিক্ষার্থীর কাছে এ সুবিধা পৌঁছেছে। এর পর যখন অ্যাসাইনমেন্ট চালু হয়েছে, এ পদ্ধতিতে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী অংশ নিতে পেরেছে।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button