রাজনীতিরাজশাহীরাজশাহীর সংবাদ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের দুর্বিষহ জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের স্প্লিন্টারের দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে কাটছে দিন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সমস্যাও। পরিবারে হয়ে আছেন বোঝা। দুঃসময়ে দলের কর্মসূচিতে গিয়ে পড়েছেন এই সঙ্কটে। কিন্তু সুসময়ে দলের নেতাদের কাছে তারা যেন বোঝা। শেখ হাসিনা ছাড়া কেউই খবর রাখেন না।

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ঘটনা। পার হয়েছে ১৭ বছর। অনেকে যৌবন শেষে বার্ধক্যের কোটায়। স্প্লিন্টারের কারণে নানা সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বয়স ক্ষয়ের নানা রোগও। এ যেন এক দুর্বিষহ জীবন।

২২ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক মানুষের জীবনের এ দুঃসহ যন্ত্রণার কারিগর তারেক রহমানের (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) ফাঁসি চান আহতরা। তারা বলছেন, মূলহোতাই দেশের বাইরে আয়েশে জীবনযাপন করছে। আমাদের মরার আগেই দেশে এনে তারেক রহমানসহ জড়িত সবার বিচার কার্যকর করলে আত্মা শান্তি পাবে।

২১ আগস্টে হামলায় আহত রাশিদা আক্তার রুমা বলেন, ‘ওষুধের খরচ প্রতি মাসে ১০/১২ হাজার টাকা লাগে। ৩২ নম্বর থেকে ৫ হাজার টাকা করে দেয়। দুই তিনটা অপারেশন করা প্রয়োজন। আমিসহ কয়েকজনের (আমি, নাজিম, বিল্লাল) অবস্থা খুবই খারাপ; দেশের বাইরে যাওয়া লাগবে। ক্ষণে ক্ষণে সমস্যা তৈরি হয়; পেট ফুলে যায়, পায়খানা হচ্ছে না ১০/১৫ দিন, বমি, চেহারা ফুলে যায়, কান থেকে পুঁজ পড়ে। এদিকে, পায়ের রডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে আরও ৬/৭ বছর আগেই। ওটা বের করা হয়নি। এটার কারণে পায়েও অনেক সমস্যা হচ্ছে।’

২১ আগস্টের আহতদের একজন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সাঈদ খোকন বলেন, ‘যে লোকটি এই ঘটনার (গ্রেনেড হামলা) মূল পরিকল্পনাকারী, আমাদের রক্ত বইয়ে দেয়ার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করেছে, সে ই লন্ডনে আয়েশে জীবনযাপন করছে। এটা কীভাবে সম্ভব? তার জন্য যাবজ্জীবন যথেষ্ট নয়। একজন নিহতের সন্তান হিসেবে ও একজন আক্রান্ত হিসেবে দাবি করি, ২১ আগস্ট ট্র্যাজেডির মূলহোতা তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে দেশে এনে তার রায় পুনর্বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হোক।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button